Saturday , January 20 2018
Home / News / বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ পাস ।

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ পাস ।

আইন
বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন পাস ।

সরকার ও সংসদ আরেকবার প্রমাণ করল যে তাদের কাছে অংশীজনের মতামতের মূল্য নেই। সব জল্পনাকল্পনা ও প্রতিবাদ-উদ্বেগ অগ্রাহ্য করে ‘বিশেষ সুযোগ’ রেখেই বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ পাস হলো। রাষ্ট্রের দুটি অঙ্গ (নির্বাহী ও আইন সভা) দেখিয়ে দিল যে ভিন্নমত ও যুক্তি অগ্রাহ্য করে চলতে তাদের কোনোভাবেই বাধে না।

ইউনিসেফ, ইউএনএফপিএ ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনসহ শীর্ষস্থানীয় নারী সংগঠনগুলো দীর্ঘ সময় ধরে সরকারকে যা করা থেকে বিরত

থাকতে বলেছে, সরকার ঠিক সেই ক্ষতিকর কাজটাই করেছে। ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোকেও কিন্তু এ বিষয়ে খুব তৎপর দেখা যায়নি।
সংসদের বিরোধী দল যথার্থই ভোটার হতে সংবিধানে নির্দেশিত প্রাপ্তবয়স্কের বয়সসীমা যেখানে ১৮ বছর রয়েছে, তার সঙ্গে নতুন আইন যে সংঘাত

তৈরি করেছে, সেদিকে মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল। অবশ্য এ-সংক্রান্ত বিষয়ে সোচ্চার নারীনেত্রীরা বিস্মিত হননি। তাঁরা আগেই বলেছিলেন,

সরকার তাঁদের দাবি উপেক্ষা করলে তাঁরা আদালতের শরণাপন্ন হবেন। কোনো সন্দেহ নেই যে সদ্য পাস করা বিলের সাংবিধানিক বৈধতা অবশ্যই

আদালতে চ্যালেঞ্জযোগ্য।
আমরা এই আইনের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়ে যারপরনাই উদ্বিগ্ন। কারণ, এর ফলে নারীর সম্ভ্রমহানিজনিত অপরাধের বিচারের পথই আরও

বেশি কণ্টকিত হতে পারে। বিয়ে নামের যে সামাজিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে আমরা গর্ববোধ করে থাকি, সেই প্রতিষ্ঠানের ওপর আরও বেশি গুরুতর

আঘাত

আসতে পারে। মেয়েদের সুরক্ষা দেওয়ার কথা বলে ছেলেদেরও কম বয়সের বিয়ের ফাঁদে আটকানো হলো। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই আইন

পাসের ফলে মেয়েদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্ন আরও বেশি ভঙ্গুর হতে পারে। কম বয়সী মায়েরাই শুধু নন, তাঁদের সন্তানেরাও

অতিরিক্ত স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়তে পারে।
অন্যদিকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্তরা শাস্তি থেকে বাঁচতে বিয়ে করবে কিন্তু পরে তা টিকবে কি টিকবে না, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সম্প্রতি এক ঘটনায়

দেখা গেছে, এক ধর্ষক চাপে পড়ে বিয়ে করেছিল, কিন্তু পরে সে তার স্ত্রীকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত লব্ধ সব অভিজ্ঞতা এটাই নির্দেশ

করছে যে ধর্ষণ-পরবর্তী জবরদস্তি বিয়ে টেকে না। সুতরাং এই আইন শ্লীলতাহানি বা ধর্ষণকে প্রকারান্তরে উৎসাহিত করলে অবাক হওয়ার কিছু

থাকবে না। এই আইন আমাদের হতাশ করেছে। আদালতের মাধ্যমে এর কোনো সমাধান পাওয়া যায় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

loading...

About Admin

Check Also

বিজ্ঞানের জন্য বিশ্বজুড়ে মিছিল

প্রকৃত তথ্যের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণের প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে হাজারো বিজ্ঞানী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। ধরিত্রী দিবসকে সামনে ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *