Friday , 12 April 2024

যৌন মিলন বা Sex এর সময় নারীর কর্তব্য কি কি?

সহবাস বা Sex করার সময় পুরুষ সঙ্গীই যে সবসময় সক্রিয় ভুমিকা পালন করবে এর কোন বাধ্যবাধকতা নেই।সব সময় মনে রাখবেন sex বা সহবাস মানে শুধু দুটি বিপরীত লিঙ্গের শারীরিক মিলন নয় বরং দুটি মনের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য। তাই sex এর ক্ষেত্রে একজন নারী পার্টনারেরও পুরুষের মত কিছু কর্তব্য থাকে। আজকের আর্টিকেল Sex বা যৌন মিলনের সময় নারীর কর্তব্য কি কি সেই বিষয়ের উপর। চলুন বিস্তারিত দেখা যাক।

Sex করার আগে নারী সেক্স পার্টনারের কর্তব্য হলো সর্বাবস্থায় তার পুরুষ সেক্স পার্টনারকে সহযোগিতা করা। নিজের আনন্দকে খুঁজে নেয়ার দায়িত্ব তার নিজেরই, তাই নিজের আনন্দের জন্য যা যা করা দরকার সবকিছু করা নারীর প্রধান কর্তব্য।
পুরুষ সেক্স পার্টনারকে প্রিয়তম জ্ঞানে বা সত্যিকারের কামনার পুরুষ ভেবে নিয়ে নিজের তৃপ্তি পাওয়ার চেষ্টা করা। কেননা, যার সাথে সঙ্গম বা সহবাস করতে হবে তাকে সত্যিকারের কামনার পুরুষ না ভাবলে কামনা পূর্ণ হতে পারেনা।
নিজের তৃপ্তির সঙ্গে সঙ্গে পুরুষ সেক্স পার্টনারের দৈহিক ও মানসিক তৃপ্তি বিধান করাও নারীর কর্তব্য। নিজের কামনা পরিতৃপ্ত করাই সম্ভোগের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়।
পুরুষ সেক্স পার্টনার যখন তাকে চুম্বন, আলিঙ্গন, ঘর্ষন, নিপীড়ন ইত্যাদি নানাভাবে তার মনে পূর্ণ কামভাব জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করে যাবে তখন নারীকেও পুরুষের সঙ্গে সমান তালে সক্রিয় হওয়া বিশেষ জরুরী। চুম্বনে প্রতি চুম্বন, আলিঙ্গনে নিজেকে শিথিল ও নমনীয় করা, ঘর্ষনে পাল্টা ঘর্ষন করা, নিপীড়নে নিপীড়িত হওয়ার জন্য নিজেকে মেলে দেয়া নারীর যৌনতৃপ্তিকে পূর্ণতা দান করে।
নারী সেক্স-পার্টনারকে পুরুষের কাছে পরিপূর্ণ আত্নসমর্পণ করা খুবই জরুরী। প্রয়োজনে নারীকে আরও এক ডিগ্রী উপরে গিয়ে একটিভ ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া উচিৎ।
নারী লজ্জাশীলা। এটা জানা কথা। কিন্তু সেক্স করার আগে বা Sex করার সময় সেই লজ্জা বা সংকোচ বা ভয়কে যতো নারী যতো বেশি দূরে রেখে নিজেকে যতো বেশি খোলামেলা মেলে ধরতে পারবে নারী ততো বেশি আনন্দ পাবে। কাজেই সেক্স করার আগে বা সেক্স করার সময় নারীকে এটা ভাবতে হবে যে, তার স্বামী বা তার বয়ফ্রেন্ড বা তার পুরুষ সেক্স পার্টনার তার খুব চেনা মানুষ, তার ভালোবাসার কামদেব, তার কামনার পুরুষ, যার সাথে লজ্জা বা সংকোচ বা ভয় পাওয়ার কিছু নেই। লজ্জা বা সংকোচ বা ভয় পেলে নিজেরই ক্ষতি। পুরুষের তাতে তেমন একটা ক্ষতি নেই।
নারী কেনো নিজের যৌন উত্তেজনাকে মুখে প্রকাশ করেনা? নিজের যৌন উত্তেজনাকে মুখে প্রকাশ করলে নারী যে কতো বেশি তৃপ্ত হতে পারে সেটা কেবল তৃপ্ত নারীরাই জানে।
নারীর উত্তেজনা ধীরে ধীরে আসে, আবার তা ধীরে ধীরে শেষ হয়। পুরুষের উত্তেজনা আসে অকস্মাৎ আবার তা অকস্মাৎ শেষ হয়। নারীকে এটা জানা প্রয়োজন। তাই নিজের শরীর ও মনে পূর্ণ কামভাব না জাগা পর্যন্ত তার পুরুষ সেক্স পার্টনারকে তার শরীর নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পুরুষকে কো-অপারেট করা নারীর একান্ত কর্তব্য। নিজের শরীর ও মনে পূর্ণ কামভাব জাগলেই কেবল পুরুষকে তার যোনির ভেতর লিঙ্গ প্রবেশে উৎসাহিত বা আগ্রহী কার উচিৎ। তা না হলে তারই সমস্যা। কেননা, পুরুষ রতি ক্রিয়ার প্রথমে যথেষ্ট উত্তেজিত হয়। কিন্তু একবার বীর্য্যপাত ঘটে গেলে সঙ্গে সঙ্গে আবার রতিক্রিয়ায় পুরুষের আর পূর্বের মত উত্তেজনা থাকে না। নারীর উত্তেজনা কিন্তু ভিন্ন প্রকারের। প্রথম রতিক্রিয়ায় সে বিশেষ আগ্রহ দেখায় না। কিন্তু যখন রতিক্রিয়া কিছুক্ষন চলে তখন ক্রমশঃ তার আগ্রহ বাড়তে থাকে। পরে পুরুষের বীর্য্যপাত ঘটলেও নারীর রতিক্রিয়ার আগ্রহ ক্রমশঃ বাড়তে থাকে।
ক্রুদ্ধ বা চিন্তিত মেজাজে স্ত্রী সহবাস উচিত নয়। মেজাজ প্রফুল্র না হলে সময় নেয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে ভাব-ভালোবাসা-প্রেমের নাটকও করা যেতে পারে। কখনোই নিজের ক্রুদ্ধ বা চিন্তিত মেজাজ তার স্বামী বা বয়ফ্রেন্ড বা পুরুষ সেক্স পার্টনারের সামনে উপস্থাপন করা উচিৎ নয়।
নারীর কর্তব্য সর্বদা তার পুরুষ সেক্স পার্টনারের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসার ভাব ফুটিয়ে তোলা।
পুরুষ সেক্স পার্টনারকে ঘৃণা করা, তাকে নানা কু-কথা ইত্যাদি বলা কখনই উচিত নয়। সহবাসের অনিচ্ছা থাকলে তা তাকে বুঝিয়ে বলা উচিত। ঘৃণা বা বিরক্তিসূচক তিরস্কার করা কখনও উচিত নয়। এতে তার পুরুষ সেক্স-পার্টনারের মনে দুঃখ ও বিরক্তি জাগতে পারে।
নিজেকে যতোটা সম্ভব খোলামেলাভাবে প্রকাশ করা নারীর একান্ত কর্তব্য। নিজের শরীর ও মনে পূর্ণ কামভাব জাগলে তার পুরুষ সেক্স-পার্টনারকে তা খোলামেলা বুঝিয়ে দেওয়া উচিত। মুখে বলতে না পারলে অন্ততঃ আচরনে বা কৌশলে সেটা বুঝিয়ে দেয়া অবশ্য কর্তব্য।

 

Spread the love

Check Also

যৌন

যৌন নিপীড়নে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র

যৌন নিপীড়নের অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *